মেঘবালিকা

যদিও সবসময় কিছু বলার থাকে না, তবু মন টা অকারনেই কিছু বলতে চায়। চারপাশে প্যাচ প্যাচে গরম, তাই ঠান্ডা হাওয়ার আশায় চান করে ছাদে উঠলাম। ফুরফুরে হাওয়া আমাকে উড়িয়ে নিয়ে গেল  ভালোলাগার দিনে। মেঘবালিকা! হ্যাঁ একটি ছোট্ট মেয়ে। বড় অদ্ভুত তার জীবন। ছোট বেলা থেকেই পড়া শোনা তে খুব ভালো, শান্ত শিষ্ট, কখনো দুস্টুমি করে না। হাতেগোনা কয়টি মাত্র বন্ধু, তবে তার বন্ধুদের সে খুব ভালোবাসে। কিন্তু কেউ যে তাকে বোঝে না! সে তার নিজের শৈশব ছেড়ে বড় হয়েছে, কিন্ত সে তার দিনগুলো ভুলতে পারে নি। বড় হওয়ার পথে, সে যে কখন বদলে গেছে, সে নিজেও টের পায় নি। ছোট্ট বেলার শান্ত মেয়েটি হয়েছে ভারী দস্যি! সুনামের বদলে কলঙ্ক ই জুটেছে তার। কখনো কাউকে বোঝাতে পারেনি সে তার মনের গভীরতা। সবাই তার দিকে আঙ্গুল তুলে প্রশ্ন করেছে মাত্র, উত্তর শোনার আগ্রহ কারোর ছিল না। এভাবেই গঙ্গা ছেড়ে খালের জলেই তার জীবন চলছিল। তারও বুঝি সবটুকু শক্তি ফুরিয়ে ছিল, তাই সেও ছিল নির্বিকার। মেঘবালিকার পবিত্র সাদা রঙে শুধুই কালো মেঘের আবরণ। কালো মেঘের ভিতর টল টলে জলের উপস্থিতি যে সবার অজানা। যখন বাইরের কঠিন গরম হাওয়ায়, মেঘের রঙ নিকষ কালো, সে আর কারো পরোয়া করে না, ঠিক তখনই.......... সে আসে!!! মেঘবালিকা কে হার মানতে হয়.. সে তার ভিতরের জলরাশি আটকে রাখতে পারে না, কখনো কান্না, কখনো প্রেম হয়ে উপচে পড়ে, তারই বুকে। আরো আরো বেশি ঘন হয় আবেগ। তার ভালোবাসা, আঘাত, আদর এ মেঘের রঙ বদলায়। বদলায় মেঘের জীবন। তার প্রতি স্পর্শে , মেঘবালিকা পূর্নতা পায়। তার স্পর্শ যে ভালোবাসার, কলঙ্কহীন। নিকষ কালো কলঙ্কের রঙ ধীরে ধীরে লাল রঙে পালটে যায়। ভাবছ বুঝি লাল রঙ কিসের??  মেঘবালিকা তার উষ্ণ আদরে লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে। ভালোবাসা বুঝি এমন ই হয়, দস্যি মেয়েও ধরা দেয় কারো বাহুডোরে!!!!

You Might Also Like

0 comments

Flickr Images