বর্ষা
গরম শেষের দিকে। হালকা বর্ষার ভাব এসেছে। প্ৰকৃতি তার রূপ পাল্টাচ্ছে আর মানুষ তার মন। হঠাৎ ই ছেলেটির সাথে মেয়েটির দেখা। শান্ত স্বভাবের মিষ্টি ছেলে। মেয়েটি ডানপিটে, বেশি কথা বলে, বোধহয় বছর সাতেক এর ছোট ছেলেটির থেকে। বেশ কিছুদিন সাধারণ দেখা, কথা তখনও হয় নি। তখনও বোধহয় তারা কেউই জানত না, কি ঘটতে চলেছে। বিধাতা বোধহয় তখন গল্প লিখতে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুদিন পর, গাছের মলিন পাতায় সবুজের ছোঁয়া লাগল। মেঘেরা যে কোন ঝগড়ায় মাতল, তা তারই জানে। মোটে শান্ত হয় না, গুর গুর করে তারা ডেকেই চলল। কোনো সন্তান সম্ভবা মা গাছের কোটরে আশ্রয় নিল। কালো আকাশের নিচে, অ থৈ জলরাশি। গাছের ফুল ও তার সুগন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছে বন্যার জলে। মেয়েটি ভিজে চুপচুপে, আর ছেলেটি ও তার দায়িত্ব পালন করতে ভোলেনি এই ভরা বর্ষাতেও। নেহাতই কাজের ছলে পরিচয় শুরু, এই বুঝি ছিল বিধাতার মনে। বাড়ি ফেরার সময়, একচিলতে হাসি মেয়েটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অজানা প্রেমের স্রোতে। একে যে চোরাবালি, তার উপর আবার তাসের প্রাসাদ.. আহা কি সখ মেয়ের। কত গঞ্জনা, কত ধিতকার। তবু মেয়ে মানবার পাত্রী নয় মোটে। তার যে সেই বর্ষা দিনের সোনার হরিণ ই চাই, তাতে তার প্রাণ গেলেও তার আক্ষেপ নেই। কিন্তু সে যে কাউকে বোঝাতে পারেনা তার মনের কথা। আর অপর জন সোনার হরিণ ই বটে। সে মেয়েটির জীবনে সোনার কাঠি ছুঁয়ে যায়, আর রূপকথার মত সব সুখ তার কাছে এসে ধরা দেয়। আর পরক্ষনেই সে তার সোনার পরশ নিয়ে ছুটে চলে গভীর অরণ্যে, যেখানে তাকে ধরার সাধ্যি কারো নেই। মেয়েটির কষ্টে হয়ত তার কখনো কষ্ট হয়, হয়ত সেও কখনো হারিয়ে ফেলে নিজেকে। হয়ত, এ ও নিছক মেয়েটির কল্পনা। তবে সে বারবার মেয়েটিকে তার সুখ ফিরিয়ে দেয়। বারবার শুকনো গাছে সবুজ পাতা আসে, ফুলের কুঁড়ি হয়। কিন্তু গাছ জানে, এ বেশিদিন নয়, একদিন তাকে শুকিয়ে যেতে হবে। সোনার হরিণ ও আর আসবে না, তার কষ্ট বুঝবে না। তবু মেয়েটি সেই বর্ষার প্রেম ভুলবে না!!!
0 comments